দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলায় তুলার আবাদ রেকর্ড পর্যায়ে

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় তুলার আবাদ বেড়েছে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় তুলার আবাদ বেড়েছে। উন্নত বীজের সহজলভ্যতা এবং একই জমিতে অন্য সবজি আবাদের সুবিধার কারণে কৃষিপণ্যটি আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে এ পাঁচ জেলায় রেকর্ড তুলা আবাদ হয়েছে।

এ পাঁচ জেলার তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে এসব স্থানে তুলা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০০ হেক্টর। তবে এ সময় তা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেড়ে ১৭ হাজার ১৮ হেক্টরে পৌঁছায়। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। বিঘাপ্রতি তুলা উৎপাদন হয়েছে ১৫-১৮ মণ।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি বছরের মতো এবারো সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের প্রণোদনার সার, বীজসহ বিভিন্ন ধরনের ঋণ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

দেশে প্রতি বছর জুলাইয়ের মাঝামাঝি তুলা চাষ শুরু হয়, চলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। জমি থেকে ফসল সংগ্রহ চলে জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত। বর্তমানে চারা পদ্ধতি ও উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের তুলা চাষ করছেন কৃষক। উৎপাদিত তুলার গুণগত মান ভালো হওয়ায় চাহিদাও বেশি। সাধারণভাবে তুলা চাষে প্রতি বিঘা জমিতে ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়।

এদিকে উৎপাদন খরচ ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারিভাবে তুলার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। এরপর গত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছর তুলার দাম মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা বেড়ে ৩-৪ হাজার টাকায় পৌঁছায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে কৃষকদের তুলা আবাদে আগ্রহ বেড়েছে।

যশোর আঞ্চলিক তুলা উন্নয়ন অফিসের প্রধান তুলা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে তুলা চাষ বেশি লাভজনক। এটি চাষে এ অঞ্চলের কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তুলা উন্নয়ন অফিসের পক্ষ থেকে প্রতি মৌসুমে চাষীদের উদ্বুদ্ধকরণ, পরামর্শ, মাঠ দিবস, উঠানবৈঠক, নতুন জাতের বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

কৃষকদের সুবিধার্থে চলতি মৌসুমে চারটি জোনে পরীক্ষামূলকভাবে চারটি বীজ তুলা উত্তোলন মেশিন দেয়া হয়েছে।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের তুলাচাষী সাইদুর রহমান মেম্বর জানান, এ বছর নয় বিঘা জমিতে তিনি তুলা চাষ করেছেন। উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ২৫ হাজার টাকা বাদ দিয়ে তুলা বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকবে তার।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের তুলাচাষী রশিদুল ইসলাম জানান, বর্তমান দাম বজায় থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন। ফলে সামনের দিনগুলোয় আবাদ বাড়বে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কর্মকর্তা সেন দেবাশীষ জানান, মানভেদে কৃষকরা বিভিন্ন তুলা মণপ্রতি ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারছেন।

তবে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের তুলাচাষী রুস্তম আলী বলেন, ‘এ বছর তুলা চাষে খরচ বেশি হওয়ায় বর্তমান বাজারদরে লাভ কম হবে।’

যদিও এ অঞ্চলে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ আল মামুন বলেন, ‘‌সরকারি দামের বাইরেও তুলার মানভেদে দাম পেয়ে থাকেন কৃষকরা। তাই দামের কারণে ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই।’

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে তুলার চাহিদা ৭৩-৭৪ লাখ বেল (১৮২ কেজিতে ১ বেল)। তবে উৎপাদন হয় ১ লাখ ৭০ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার বেল।

আরও